
সোহরাব হাসান

গাফ্ফার চৌধুরীর সাংবাদিকতার শুরু গত শতকের পঞ্চাশের দশকে, যখন তিনি কলেজের গণ্ডিও পার হননি। এরপরও লেখালেখি, সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক আন্দোলন চলেছে সমান্তরালে। ষাটের দশকে তিনি ছয় দফা তথা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ঘোরতর সমর্থক ছিলেন। তার সান্ধ্য দৈনিক আওয়াজ-এ প্রথম ছয় দফার পূর্ণ বিবরণ ছাপা হয়।

বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ১১ ডিসেম্বর রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এ অবস্থানে আছি।”

২০০১ থেকে ২০২৬ সাল। মাঝখানে ২৫ বছর। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দুঃখ-দুর্দশা মোটেই কমেনি। যেকোনো রাজনৈতিক পালাবদল ও নির্বাচন এলেই তারা ভয়ে থাকেন।

এবারে এই আসনে বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও তরুণ দে। দলীয় নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দুজনকে বহিষ্কার করলেও দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তরুণ দে-কে দলেরই একাংশ প্রার্থী করেছে এই বিবেচনায় যে সংখ্যালঘুরা জোট প্রার্থীকে ভোট দেবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে। এটা আনন্দের খবর নিশ্চয়ই। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, আরও কমতে পারে। কিন্তু সেটা কীসের বিনিময়ে?

বিএনপির উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। তার কোনো কোনোটিতে তারা জয়ী হলেও বেশ কিছু আসনে হেরে গেছে। আবার যেসব প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাদের কারও আইনি লড়াই শেষ হয়নি।

২০০০ সালে এক সাক্ষাৎকারে রেডিও সাংবাদিকতার এই কিংবদন্তী বলেন, সার্বিকভাবে টিভি সাংবাদিকতার মান মারাত্মকভাবে নেমে গেছে। তারা সাংবাদিকতার সস্তা পথ বেছে নিয়েছে। শুধু সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করছে।

এ বারের গণভোটে কী হবে? অন্তর্বর্তী সরকার আরেকটি প্রহনমূলক গণভোট না চাইলে তিলকে তাল দেখাবেন না। তারপরও কেন তারা হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে? একটা কারণ হতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তারা ভরসা রাখতে পারছে না।

অতীতের কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত ও উগ্র কথাবার্তার জন্যই এনসিপি অনেকটা একঘরে হয়ে যায় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে তারা জনমনে আশা জাগালেও সেটি ধরে রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতায় থাকতে অনেক নেতা-নেত্রী জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম নিয়ত তার গুণকীর্তনে ব্যস্ত থাকে, দলীয় নেতা-কর্মীরাও তাকে মহামানবের আসনে বসান। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থেকে যারা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন, তিনিই প্রকৃত জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রীর শিরোপা পান।

যদি আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত বিশ্লেষণ করি, দেখব বিরোধী দল বিএনপির নেতা হিসেবে তিনি ম্যাজিক দেখিয়েছেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। বিএনপি জোটের আশাতীত সাফল্যের পেছনে তার সাংগঠনিক কৌশল ম্যাজিক বা জাদুর মতো কাজ করেছে।

কখনো কখনো জীবন্ত মানুষের চেয়ে ইটপাথরের ভবন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেটাই যদি না হবে, তাহলে না প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয় আক্রমণের শিকার হবে কেন? কেন এসব ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হবে?

রাজনৈতিক মহলে যেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো, তারেক রহমান কি শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই দেশে আসছেন না? না, এর পেছনে ভূরাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত আছে?

গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে কী জবাব বের করতে চান, তার ওপরই জরিপের ফলাফল নির্ভর করে। আইআরআইয়ের আগের জরিপটি মতলবি হলে পরেরটি বিশুদ্ধ হওয়ার কারণ নেই।

জামায়াতে ইসলামীর আমির এক বোমা ফাটিয়েছেন। চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে নির্বাচনের জেনোসাইড হবে।

এক সময়ের মজলুম জনগোষ্ঠীর জালিম হয়ে যাওয়ার বহু উদাহরণ আছে। সাতচল্লিশের আগে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানেরা ছিল সংখ্যালঘু মজলুম। দেশ বিভাগের পর পাকিস্তানে সেই মুসলমানেরাই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলো যেসব দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে, সেসব নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত রেখেছে। অনেকে বলেন, সরকারকে চাপে রাখতে এটি করা হয়েছে। এখন বিএনপিসহ অন্যান্য দলও যদি তাদের দাবি নিয়ে একইভাবে রাস্তায় নামে তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?